রেহানা প্রধানের রাজনৈতিক জীবন প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের অংশ – ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জাগপার সাবেক সভাপতি মরহুমা অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, একজন নারী হিসেবে অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান তার গুণ বৈচিত্র ও শিষ্টাচার দেশ ও সমাজের জন্য উৎসর্গ করেছেন। ৭৪’র দুর্নীতি বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও আমৃত্যু পর্যন্ত ন্যায় ও আপোসহীন সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন তিনি। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার শুরু আওয়ামী লীগই করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাবেক সভাপতি মরহুমা অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের স্মরণে প্রধান স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মওদুদ আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে একটা পুলিশি রাষ্ট্র। যার কারণে আজকে সামাজিক অপরাধ বেড়েছে। সমাজের নীতি-নৈতিকতাহীন অবস্থা বিরাজ করছে। মা ছেলেকে খুন করছে। ছেলে মাকে খুন করছে। ভাই ভাইকে খুন করছে। ছেলে বাবাকে খুন করছে। ‘যারা এগুলো করছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট। তারা জানে যে, অপরাধ করলেও তাদের ধরা পড়ার সম্ভাবনা নেই। ধরা পড়লেও তারা দ্রুত রেহাই পেয়ে যাবে। ফলে বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান সম্মত নির্বাচিত সরকার নয়। ২৯ ডিসেম্বর সিভিলিয়ান ক্যু’র মাধ্যমে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। ১০ বছরের যে নির্যাতন, অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, দুর্নীতি-দুঃশাসন, সেটির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০১৯ সালে। এর আগে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে বহু নিরীহ মানুষকে তারা হত্যা করেছে। কিন্তু একজন গডফাদারকেও তারা ধরতে পারেনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, পারিবারিক বন্ধন সূত্রে রেহানা প্রধান আমার ভাগিনা বউ-মা। তার পারিবারিক সহনশীলতা, শিক্ষা, রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য আমার খুব কাছে থেকেই দেখার সুযোগ হয়েছে। সত্যিকার অর্থেই শফিউল আলম প্রধানের রাজনীতিতে চলে আসা ও পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় রেহানা প্রধানের অবদান অতুলনীয়। রেহানা প্রধান মরহুম শফিউল আলম প্রধানের আদর্শ সহধর্মিনী ও নারী অগ্রযাত্রার অগ্রপথিক। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। তিনি আরো বলেন, শফিউল আলম প্রধান ও রেহানা প্রধানের চলে যাওয়া জাগপা’র শুন্যতাকে নতুন উদ্যমে তার সুযোগ্য সন্তান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ও পুত্র রাশেদ প্রধান জাগপাকে অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে যাবে আমি আশা করি।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, আমি বাবা শফিউল আলম প্রধান ও মা রেহানা প্রধানের সন্তান হিসেবে তাদের যে রেখা যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য সদা চেষ্টা করবো। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি ধৈর্য ধারণ করে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

আবু মোজাফফর মো. আনাছ এর সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ জামাল উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান।

বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, জাগপা’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, জাগপা’র সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসমতউল্লাহ, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বেলায়েত হোসেন মোড়ল, ঢাকা মহানগর জাগপা’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন ফিরোজ, সহ সভাপতি এনায়েত আহমেদ হালিম, আশরাফুল ইসলাম হাসু, আসাদুজ্জামান বাবুল, সাইদুজ্জামান কবির, চট্টগ্রাম মহানগর জাগপা’র সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল, যুব জাগপা’র কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফুল হক তুহিন, সহ সভাপতি মাহিদুর রহমান বাবলা, শাহিনুর রহমান শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী সিরাজ, জাগপা মজদুর লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইবরাহিম খলিল রাজা, বরিশাল মহানগর জাগপা সাধারণ সম্পাদক নান্নু হাওলাদার, ঢাকা মহানগর যুব জাগপা সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক ইসহাক মীর, প্রচার সম্পাদক বিপুল সরকার, আনোয়ার হোসেন, জাগপা ছাত্রলীগ নারায়নগঞ্জ জেলার সভাপতি মো. আবু জাফর প্রমুখ।