জাগপা’র প্রবীণ নেতা কাঞ্চন আর নেই!

জাগপা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম শফিউল আলম প্রধানের উপদেষ্টা ও অবিভক্ত (৭৪’র) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা শাহ মোহাম্মদ কাজী কবিরুল ইসলাম কাঞ্চন (৬৭) গত বৃহস্পতিবার রাত ৯.৪০ মিনিটে খুলনায় তাঁর ছেলের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, রাজনৈতিক সহকর্মী-সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আগামী সোমবার বাদ আছর ফরিদপুরস্থ আলীপুর কবরস্থান মসজিদে মরহুমের কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাগপা’র সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, জাগপা’র কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান, আবু মোজাফফর মো. আনাছ।

নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। জাগপা’র সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, জাগপা পরিবার এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের মৃত্যুতে আরেকজন অভিভাবককে হারিয়েছে। যা সহজে পূরণীয় নয়। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনকে অনুসরণ করে জাগপা এগিয়ে যাবে।

শাহ মোহাম্মদ কাজী কবিরুল ইসলাম কাঞ্চন এর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

তিনি ১৯৭২ সালে (ফরিদপুর) সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নাট্য সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ভুগোল) বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সুবাদে ১৯৭৩ সালে অবিভক্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগে যুক্ত হন। ১৯৭৪ সালের ৩০ মার্চ তৎকালীন সরকারদলীয় বেপরোয়া দুর্নীতি ও লুন্ঠনের বিরুদ্ধে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে ৬৪ জন দুর্নীতিবাজের তালিকা প্রকাশ করেন। এসময় রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শফিউল আলম প্রধানসহ কবিরুল ইসলাম কাঞ্চন গ্রেফতার হন। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাবার পর ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল রমনা গ্রীণ হাউজে জাগপা’র প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন এবং পরে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই তিনি জাগপা’র সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে (আজীবন) পদমর্যাদা লাভ করেন। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবন স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য উদাহরণ।