জাগপা’র সম্মেলনে বর্ণাঢ্য আয়োজন, পুনঃনির্বাচিত সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান

আজ ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাগপা’র বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০ টায় জাতীয় সঙ্গীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আর দুপুর ১টায় নামাজের বিরতির পর ২য় অধিবেশন শুরু হয়। জাতীয় সম্মেলনে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান সভাপতি পদে পুনঃনির্বাচিত হয়। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জাগপা সব সময় পাশে ছিল এবং থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যখন আমরা কাউন্সিল করছি, ঠিক সেই মুহূর্তে গণতন্ত্রের মাতা খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ। তাকে কারাগারে রেখে আমরা কোনো কথা বলতে চাই না। আমাদের আন্দোলন করতে হবে।

জাগপার জাতীয় কাউন্সিল ২০১৯ এর সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। তাসমিয়া প্রধান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি আপনারা সবাই জানেন। আজকে শুধু পেঁয়াজ নয়, প্রতিটি পণ্যের মূল্য বাড়ছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ-যানবাহনের ভাড়াসহ নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ কীভাবে বেঁচে আছে, কীভাবে জীবন যাপন করছে, সেই কথা কি আমরা চিন্তা করি?

তিনি আরও বলেন, আমি কোর্ট থেকে গাড়িতে করে যখন বাসায় ফিরি, তখন রাস্তায় ছোট-ছোট বাচ্চারা জিনিসপত্র বিক্রি করতে আসে। আমি মনে করি, যেই দেশে শিশু শ্রম হয়, সেই দেশ আর যাই হোক উন্নয়নের কোনো দেশ নয়। ‘তারা কথায় কথায় বলেন, উন্নয়নের রোল মডেল। আমারতো মনে হয় বাংলাদেশ ধর্ষণের রোল মডেল, দুর্নীতির রোল মডেল। সেই সময় করেছিল বাকশাল, এখন দুর্নীতির মাধ্যমে তারা করেছে টাকশাল। সাধারণ মানুষ না খেয়ে দিনের পর দিন কীভাবে জীবন পার করছে, সেই প্রশ্ন আপনাদের মাধ্যমে জাতির কাছে রেখে গেলাম।’

দলছুট নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেন, সমুদ্র থেকে এক ফোটা পানি তুলে নিলে সমুদ্রের কিছু হয় না, গাছ থেকে একটা পাতা ঝড়ে পরলে গাছেরও কিছু হয় না। অনেক দুঃখ-কষ্ট আমাদের মনের মধ্যে আছে। কিন্তু আমাদের এখন লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা সাধারণ মানুষের মুক্তি ও গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের মুক্তি এবং দেশনেত্রীর মুক্তির যেই আন্দোলন সেই আন্দোলনে জাগপা সব সময় পাশে থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বলেন, জাগপা কোনো নবীন দল নয়। জাগপার বয়স ৪০ বছর। এখানে ৪০টি জেলার নেতারা এসেছেন। এতেই প্রমাণ হয় আপনারা সারাদেশে ছড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, আমি আশা করি ২০ দলীয় জোটের মধ্যে যে সম্পর্ক আছে তা ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশের মানুষ নিহত হলে সঙ্গে সঙ্গে শফিউল আলম প্রধান (জাগপার প্রতিষ্ঠাতা) বিবৃতি দিতেন। ফেলানী নিহত হওয়ার পর তিনি কঠিন বিবৃতি দিয়েছিলেন। এখনও প্রতিনিয়ত ফেলানীরা নিহত হচ্ছে কিন্তু কেউ বিবৃতি দেয় না।

জাগপা’র সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ জামাল ইদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইনসান আলম আক্কাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের সম্মানিত এবং জাগপার শুভাকাঙ্খী হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এম.এ হালিম, এলডিপি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, বিএনপি নেত্রী অর্পণা রায় চৌধুরী, এলডিপি’র যুগ্ম মহাসচিব তমিজ উদ্দিন টিটু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব মোঃ ইয়ারুল ইসলাম এবং বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার সারোয়ার।

এছাড়া জাগপার নেতৃবৃন্দদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাগপা’র সহ সভাপতি ও রাজনৈতিক মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর জাগপা’র সভাপতি আবু মোজাফফর মোঃ আনাছ, সহ সভাপতি ও বরিশাল জেলা জাগপা’র সভাপতি মাহাবুব আলম মজুমদার, জাগপা’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুর রহমান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসমত উল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী জেলা জাগপা’র আহ্বায়ক সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা জাগপা’র আহ্বায়ক ভিপি মুজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর জেলা জাগপা’র সদস্য সচিব শাহজাহান খোকন,  সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর জেলা জাগপা’র আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, ছাত্র ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও বগুড়া জেলা জাগপা’র আহ্বায়ক শামীম আক্তার পাইলট, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মানিক সরকার, ত্রাণ ও সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা জাগপা’র সভাপতি মফজুলুর রহমান মুন্সী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও নীলফামারী জেলা জাগপা’র সদস্য সচিব মোঃ জাকিউল আলম সাকী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর জাগপা’র আহ্বায়ক মোঃ শাহজাহান আহমদ লিটন, কেন্দ্রীয় সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা জাগপা’র সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিয়া রঞ্জু, কেন্দ্রীয় সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা জাগপা’র সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য ও পঞ্চগড় জেলা জাগপা’র আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলী, কেন্দ্রীয় সদস্য ও ঢাকা মহানগর জাগপা’র আহ্বায়ক আরিফ হোসেন ফিরোজ, যুব জাগপা’র কেন্দ্রীয় সভাপতি আরিফুল হক তুহিন, যুব জাগপা’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ রহমান, ঢাকা মহানগর যুব জাগপা’র সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, জাগপা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রুবেল, জাগপা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ফারুকী, জাগপা মজদুর লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তিতাস, ঢাকা মহানগর জাগপা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর আমির হোসেন আমু সহ বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ।