শফিউল আলম প্রধানের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী কাল!

‘জন্মেছি মাগো তোমার কোলেতে, মরি যেন এই দেশে’ – মনে হল কবির কবিতার চিরসত্য এই লেখনীর সাথেই অভিমান করে চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন আপোসহীন রাজনীতির সোনালী অতীত ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মুকুটহীন সম্রাট জাগপা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। যার চোখে মুখে ছিল দেশ ও মানুষকে ভালবাসার জাদুকরি মায়া ও অপ্রতিরোধ্য প্রতিবাদ। তিনি ছিলেন একজন নির্লোভ রাজনীতির নেতা নির্মাণের জাদুঘর। শত্রুর মনও গলে যেতো এই কীর্তিমান মানুষটির সামনে দাঁড়ালে। সৃষ্টির ইতিহাসে শফিউল আলম প্রধান আরেকজন জন্মাবে না শত হাজার বছরেও।

তিনি চাইলেই এমপি-মন্ত্রী হয়ে অর্থের পাহাড় গড়ে তুলতে পারতেন। কিন্তু নীতি ও আদর্শের কাছে বিন্দুমাত্র আপোস করেননি এই মহান নেতা। শফিউল আলম প্রধান ছিলেন কোটি মানুষের ভালবাসার একমাত্র মিনার। তার আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম রাজনীতির শ্রেষ্ঠত্বের নিদারুন ইতিহাস। যার ইতিহাস পরাধীনতা ভেঙে বাংলার স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস। তিনি তৎকালীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একজন নেতা হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পরাধীন বাংলার দিনাজপুরে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন।

তিনি ১৯৫০ সালের ১লা জানুয়ারি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার টোকরাভাসা গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তৎকালীন প্রাদেশিক পাকিস্তানের আইন পরিষদের স্পীকার এড. মৌলভী গমির উদ্দিন প্রধানের ৩য় ছেলে। ১৯৬৮ সালে শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজের নির্বাচিত জিএস ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়া অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭২ থেকে ৭৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭৪ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৪ সালের ৩০ মার্চ ছাত্রলীগের পক্ষে ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির তালিকা প্রকাশ করে গ্রেফতার হন। ১৯৭৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা গঠন করেন। শফিউল আলম প্রধান আদর্শ ও নীতির কাছে আপোসহীন থাকার কারণে প্রতিটি শাসকের আমলেই জেল খাটতে হয়েছে। তার রাজনীতির ত্যাগ ও আদর্শ জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা’র নেতাকর্মী ও দেশের জনগণ চিরদিন মনে রাখবে।