১৯৭১ সাল, অগ্নিঝরা মার্চ। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছিল। শান্তি পূর্ণ সমাধানের শেষ পথ খুঁজতে বঙ্গবন্ধু মুজিব ইয়াহিয়ার সাথে শেষ দর কষাকষি করছিলেন। ছাত্র-তরুণ বিশেষত ছাত্রলীগ অগ্রসর কর্মীরা প্রচণ্ড অস্থিরতা ও আবেগে কাঁপছিল। স্বাধীনতা ছাড়া আর কোন সমাধানই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এমনি এক পটভূমিতে ২৩শে মার্চ স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিল ছাত্রলীগ। পরাধীন বাংলার দিনাজপুরের দায়িত্ব দেওয়া হল আমার উপর। আমি তখন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠ চক্র সম্পাদক।
২৩ মার্চের প্রভাত, প্রবল আবেগ ও উত্তেজনায় কাঁপছিল দিনাজপুর। রাজপথে পাকিস্তানি বাহিনীর টহল। বাঁধা ছাড়াই জেলা প্রশাসনের প্রায় সকল কার্যালয়ে উত্তলিত হল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। কোতোয়ালি থানা, যা তখনো বহন করছিল পাকিস্তানের শেষ চিহ্ন। বেয়নেট ও রাইফেল হাতে পাহারারত সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। দেশ প্রেমের নেশায় তখন আমরা উন্মাদ। বাংলাদেশের পতাকা হাতে ছাত্র কাফেলা দীপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে চললো কোতোয়ালি থানা অভিমুখে। অবশেষে সমর্পিত হল থানা কর্তৃপক্ষ। জেলা সদরে শেষ পাকিস্তানি পতাকাটি নামিয়ে দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। কার্যত সেদিনই শুরু হল বাংলাদেশের পথ চলা। স্বাধীনতার পথে হাঁটতে ছাত্ররাই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বাধ্য করেছিল।
