বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা দিল্লির দাসত্বের কাছে জিম্মি – ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান

শহীদ ফেলানীসহ সীমান্ত এলাকা জুড়ে ভারতীয় বাহিনীর বেপরোয়া গুলি ও হত্যার সঠিক বিচার না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বন্ধুত্বের আড়ালে দিল্লি আমাদের সাথে বেনিয়ার মত আচরণ করেছে। ভারতীয় বাহিনী বাংলার সীমান্তে প্রতিনিয়ত গুলি আর লাশ উপহার দিচ্ছ । বাংলার মানুষের প্রয়োজনে ভারত আমাদের সাথে পানি নিয়ে ডিগবাজি করেছে। তাঁরা বন্ধুত্বের নামে আমাদের উপর শোষণ চালাচ্ছে। তিস্তার বিপদগামী বাঁধ আজ আমাদের উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমি বানিয়েছে। মরণবাঁধ ফারাক্কা আজ আমাদের কৃষকদের ভাতে আর পানিতে মারতে শুরু করছে!

তিনি ফেলানীসহ সীমান্তে সকল হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের মাধ্যমে করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ আমাদের আফসোস হয়! একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেলাম কিন্তু গণতান্ত্রিক সরকার পেলাম না! যে সরকার নিজের ক্ষমতার প্রয়োজনে দিল্লির দাসত্ব মেনে নিতে পারে। যে দেশের সরকার সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদ করে না। আমরা মনে করি তখন সে দেশের ফেলানীরা কাঁটাতারে ঝুলে না, তখন আমার বাংলাদেশ ঝুলে থাকে! তাই আজ বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থা দিল্লির দাসত্বের কাছে জিম্মি। মনে রাখবেন লাখো শহীদদের বাংলাদেশে দিল্লির দাসত্ব জনগণ কবুল করবে না।

এসময় তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই সংলাপে জাগপা’সহ দেশপ্রেমিক জনগণ অংশ নিবে না এবং এখন সংলাপের সময় নয় এখন প্রয়োজন সরকারের পদত্যাগ করা। প্রয়োজন তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি -জাগপা আয়োজিত “ফেলানী নয়, ঝুলছে আমার বাংলাদেশ ” ও সীমান্তে সকল হত্যার প্রতিবাদে মানব বন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জাগপার সহসভাপতি ভিপি মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু মোজাফফর মোঃ আনাছ, আসাদুর রহমান খান, সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, কল্যাণ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান তামান্না, জাগপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মোড়ল,দপ্তর সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম রাতুল, ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক এনায়েত আহমেদ হালিম, সহসভাপতি নাসির উদ্দীন’সহ যুব জাগপা ও জাগপা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।