ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে – ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান

স্বাধীনতার যুদ্ধকালীন সময় থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশের মানুষের উপর কূট-কৌশলী সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি -জাগপা’র সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেছেন, ভারত কখনও বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারে না। এই ভারতের হাতে সীমান্তে আমার নিরাপরাধ ফেলানীদের লাশ ঝুলে থাকে। এই ভারতের হাতেই কূটনৈতিক চক্রান্তে অবৈধ ভোটার বিহীন সরকারের জন্ম হয়েছে। এই ভারতের হাতেই ফারাক্কার মরণ ফাঁদ বাংলার উর্বর মাটিকে মরুভূমির আকৃতি বানিয়ে দিয়েছে। আজ সাহস করে সত্য বলতে হয়, ভারত বাংলাদেশের মানুষের উপর আওয়ামী লীগ কর্তৃক পানিতে, জনগণের মৌলিক অধিকার ও রাজনৈতিক ভাবে যে জুলুম-নিপীড়ণ চালাচ্ছে সেটা আজ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামীল।

তিনি বলেন, আজ আফসোস হয় প্রভূদের নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগের হাতে দিল্লি যে শাসনের ভার তুলে দিয়েছে সেটা আমার দেশের মানুষের উপর অঘোষিত দিল্লির মতাদর্শ বলা চলে। এখানেই শেষ নয়, ২৫ শে ফেব্রুয়ারী পিলখানা, ৫ মে শাপলা চত্বর, য্দ্ধুাপরাধের নামে আন্তর্জাতিক ট্র্যাইবুনাল এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ভোট ডাকাতি’সহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার উপর দিল্লির হস্তক্ষেপ দেশবাসী উপলব্ধি করেছে। সুতরাং দিল্লি বাংলাদেশের প্রভূ বা বন্ধু হতে পারে না। দেশবাসী হুশিয়ার থাকবেন।

তিনি বলেন, মরণ ফাঁদ ফারাক্কা আজ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। যার কারণে ফারাক্কা অধ্যুষিত বাংলাদেশের অঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, বনজ, শিল্প, নৌ পরিবহন, পানি সরবরাহ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যাপক লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়। প্রত্যক্ষ ভাবে বাংলাদেশের বাৎসরিক প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়। যদিও বর্তমানে এর ক্ষতির পরিমাণ অনেক গুণ বেশি হবে।

তাসমিয়া প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে অবিলম্বে ফারাক্কাকে আবারও জাতীয় ও সার্বভৌমত্বের ইস্যু মনে করে আন্তর্জাতিক ভাবে দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান।

তিনি আজ সোমবার (১৬ মে ২০২২) ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষ্যে জাগপা আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জাগপা’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু মোজাফফর মোঃ আনাছ, আসাদুর রহমান খান, নিজামউদ্দিন অমিত, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, যুব জাগপা’র সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র সরকার প্রমুখ।