‘প্রধান ছিলেন দেশপ্রেমী মুক্তিযোদ্ধা ঈমানদার রাজনীতিক’ – এ এম এম বাহাউদ্দীন

আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরীরুপী প্রতিবাদী কন্ঠস্বর জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশ একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা এবং অকুতোভয় ইমানদার দেশপ্রেমিককে হারালো। শফিউল আলম প্রধান এদেশের রাজনীতির জন্য যে চেতনা-দর্শন-দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন তা আগামী দিনের দেশপ্রেমী নেতাদের জন্য অনুকরনীয়-অনুসরনীয় হয়ে থাকবে। এদেশে অনেক দেশপ্রেমী নেতা জন্ম গ্রহণ করেছেন। তারা ক্ষমতায় গেছেন; দেশ সেবা করেছেন, ভাগ্য গড়েছেন। শফিউল আলম প্রধান ছিলেন ব্যাতিক্রম। তিনি আদর্শ বিষর্জন দিয়ে যে কোনো সময় মন্ত্রী হতে পারতেন। কিন্তু আদর্শের প্রতি দৃঢ়সংকল্প থাকায় ক্ষমতার মোহ কখনো তাকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি। নিকট অতীত যেমন ক্ষমতার মোহ আচ্ছন্ন করতে পারেনি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, অলি আহাদ ও বাম নেতা কমরেড মেহেদীকে। অনেক নেতাকে দেখেছি মাঠের আন্দোলন করছে, আবার বিক্রী হয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে জেলে গেছেন। কারাগার থেকে বেরিয়ে বঙ্গভবনে গিয়ে মন্ত্রী হয়ে গাড়ীতে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন এমন নজীর দেশে কম নেই। কিন্তু মন্ত্রীত্বের লোভ প্রধানকে কখনো আচ্ছন্ন হতে দেখিনি। ‘পিন্ডীর শৃংখল ভেঙ্গেছি; দিল্লীর গোলামীর জন্য নয়’ তাঁর এই শ্লোগান এদেশের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মন্তরে উচ্চরিত হবে।

সাচ্চা জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রধান দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শুধু রাজপথে থাকেননি; সব সময় তিনি ব্যাক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্যাক্তি স্বার্থ, দলীয় স্বার্থে যখন অনেক জাঁদরেল নেতা প্রতিবেশী দেশের আগ্রাসী কর্মকান্ডে নীরব থেকেছেন, বৃহৎ বৃহৎ দল হাত গুটিয়ে বসে ছিল; তখন ছোট্ট দলের ক্ষুদ্র শক্তি নিয়ে প্রধান রাজপথে নেমেছেন প্রতিবাদ করেছেন। সীমান্ত হত্যার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তিস্তার পানির ন্যার্য্য হিস্যার দাবি, টিপাইমুখে বাঁধ নির্মাণের বিরোধিতা, দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে ট্রানজিট দেয়ার বিরোধিতা, ভারতকে সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের নাম শফিউল আলম প্রধান। সব সময় অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন; ইসলামী মূল্যবোধ আক্বিদার পক্ষ্যে সোচ্চার ছিলেন। সেই দিনাজপুরের কাজের মেয়ে ইয়াসমীন হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে প্রথম প্রধানের দলকে মানুষ রাজপথে মিছিল দেখেছে; আবার রৌমারীতে ফেলানীর লাশ কাঁটাতারে ঝুলে রাখার প্রতিবাদে তিনিই প্রথম রাজপথে নেমেছেন। শুধু কী তাই; রৌমারীর বরইবাড়ীতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীদের সাফল্যে হৃদয়ের বাঁধভাঙ্গা উৎসব করেছেন। আবার পিলখানায় দেশপ্রেমী সেনাবাহিনীর ৫৭ অফিসার হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে একের পর এক মিছিল করেছেন। পিলখানা হত্যাকান্ডকে ‘দেশপ্রেমী সেনা হত্যা দিবস’ ঘোষণার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। সাচ্চাদেশপ্রেমী নেতা প্রধান যে ২০ দলীয় জোটে ছিলেন সেই জোট তাঁর আদর্শ-দর্শনের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এ বিশ্বাস রাখতে চাই।

প্রধান শুধু দেশপ্রেমীই ছিলেন না, জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের আস্থার স্থলও ছিলেন। ইনকিলাব যখনই বিপদে পড়েছে তখনই নিঃস্বঙ্কচিত্তে পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধান। দুঃসহয়ের বন্ধু হিসেবে ইনকিলাবের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। প্রধানের মৃত্যুতে দেশ শুধু একজন দেশপ্রেমি মুক্তিযোদ্ধাকে হারায়নি; ইনকিলাবও হারালো একজন অকৃতিম বন্ধুকে। আল্লাহ প্রধানের স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে প্রিয়জন হারানোর শোক সহ্য করার শক্তি দান করুক।