দেশ চায় স্বাধীনতা, জাতি চায় মুক্তি – ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি – জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেছেন, বাংলাদেশে ভোটাধিকার নাই, গণতন্ত্র নাই, বাকস্বাধীনতা নাই, শোষণমুক্ত সমাজব্যবস্থা নাই, ন্যায়বিচারও নাই। তাই অত্যন্ত দুঃখের সাথেই বলতে হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়নি।

আজ ২৬ মার্চ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাগপা সভাপতি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শুধু মাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তুলে ধরা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধু ব্যতিত দেশের সকল মহানায়কদের ইতিহাসকে ধামাচাপা দেওয়ার নীলনকশা করা হয়েছে। স্বাধীনতার সর্বপ্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলক আসম আব্দুর রব, স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠকারী শাহজাহান সিরাজ, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীকে স্মরণ করা হচ্ছেনা। স্বাধীনতার মহানায়কদের অবদানকে অস্বীকার করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান আরোও বলেন, দেশের জনগণকে দূরে ঠেলে দিয়ে বিদেশি অতিথিদের নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন কিসের আলামত তা আমার কাছে পরিস্কার নয়। স্বাধীন দেশের মাটিতে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের প্রতিবাদ করা যাবেনা, তিস্তার পানি নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না, সীমান্তে হত্যা নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না, ন্যায্য হিস্যা নিয়ে কথা বলা যাবেনা। এই আমার স্বাধীন দেশ আর স্বাধীন দেশের সুবর্ণজয়ন্তী। কথাবার্তা পরিস্কার, পিন্ডির থেকে স্বাধীনতা এনেছি দিল্লির গোলামি করার জন্য নয়।

জাগপা সভাপতি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমি একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেইসব অকুতোভয় বীর সেনানী আর সম্ভ্রমহারা মা, বোনদের যাদের অদম্য সাহস আর আত্নত্যাগে আমাদের বিজয় এসেছিল। তাদের সেই আত্নত্যাগের ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে নতুন যুদ্ধ শুরু করতে হবে। কারন দেশ চায় স্বাধীনতা, জাতি চায় মুক্তি।

এদিকে জাগপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন এর নেতৃত্বে জাগপা প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।