জনগণ খালেদা জিয়াকে এবার ক্ষমতার চাবি উপহার দিবে – ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান

হিটলারের রূপদারী আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশের জনগণ আর এক মুহুর্তেও ক্ষমতায় দেখতে চায় না দাবী করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপা’র সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেছেন, ওরা শাসক নয় ওরা দুর্নীতিবাজ এবং জালীম। ওরা মানুষ নয় দানব। তাদের হাতে সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার  এবং গণমাধ্যমও নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। শেখ হাসিনার অধীনে জাগপা’সহ কোন দল ভোট ডাকাতির খেলায় অংশ নিবে না। তবে মনে রাখবেন জনগণ এবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতার চাবি উপহার দিবেন।

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান আরো বলেন, আওয়ামীলীগের দুর্নীতির টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়নি বরং পদ্ম সেতুর দুর্নীতির টাকা বস্তায় ভরে আওয়ামী লীগ বিদেশে পাচার করেছে। সুতরাং জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পদ্মা সেতু হলো আর আওয়ামী লীগ সরকার বলে বেগম খালেদা জিয়াকে পদ্মায় ফেলে দিবেন! ড.ইউনুসকে পানিতে ডুনিয়ে তুলবেন। দয়া করে একটু সাবধানে কথা বলুন। আপনাদের পতন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াতের কথা শুনলে আওয়ামী লীগের ভয়ের সৃষ্টি হয়। আজ আওয়ামী লীগ ইতিহাস ভূলে গেলেন ক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাবেক আমীর শহীদ মতিউর রহমান নিজামীকে নিয়ে নির্দলীয় সরকারের দাবীতে ১৭০ দিন হরতাল ডেকেছেন এবং ক্ষমতায়ও গেছেন। জনগণের প্রশ্ন আজ জামায়াতের অপরাধ কোথায়? আজ কেন নিরাপদ জামায়াতের প্রথম সারির নেতাদের হত্যা করা হলো। তিনি বলেন, এই জালীম সরকার পশ্চিমাদের খুশি করার জন্য আলেমদের টার্গেট করছে। গণকমিশনের নামে ১১৬ জন আলেমের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এখন দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশ, গণতন্ত্র  ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার জন্য আমাদের শফিউল আলম প্রধানের মত হতে হবে। কারণ শফিউল আলম প্রধান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু ১৯৭৩-৭৪’র  আওয়ামীলীগের যে দুর্নীতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তখন শফিউল আলম প্রধানই নিজ দলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। আজ আওয়ামী লীগের নতুন মডেল হলো উত্তর কোরিয়া মডেল। এক দেশ এক আওয়ামী।

তাই আজ দেশের যে পরিস্থিতি সেটাকে মোকাবেলা করতে হলে মত দ্বিমত বুঝিনা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজ আলেমদের হয়রানি করার জন্য যে গণকমিশন গঠন করা হয়েছে এটা খুবই দুঃখজনক। আসুন ছোট-বড় বিবেচনা না করে সবাই মিলে এই জালীম সরকার কে বিদায় করি।

নেতৃবৃন্দ আজ শনিবার (২১ মে, ২০২২) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা আয়োজিত জাগপা’র সভাপতি মরহুম শফিউল আলম প্রধান এর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি – জাগপা’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এনডিপি’র চেয়ারম্যান ক্বারী মোঃ আবু তাহের, জাগপা’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু মোজাফফর মোঃ আনাছ, আসাদুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ও রাজনৈতিক মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এলডিপি’র ড.নেয়ামুল বশির, বাংলাদেশ লেবার পার্টির হামদুল্লাহ আল মেহেদী, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নুরুল কবির পিন্টু, বাংলাদেশ জাতীয় লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ, প্রগতিশীল ন্যাপের পরশ ভাসানী,  এনডিএম’র নুরুজ্জামান হীরা, জাগপা’র আরিফ হোসেন ফিরোজ, এনায়েত আহমেদ হালিম, মোঃ হেলাল, নাসির উদ্দিন, যুব জাগপা’র নজরুল ইসলাম বাবলু, জাগপা ছাত্রলীগের আব্দুর রহমান ফারুকী, শ্যামল চন্দ্র সরকার প্রমূখ।

এদিকে বিকেলে শফিউল আলম প্রধান এর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে জাগপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন এর নেতৃত্বে জাগপা প্রতিনিধি দল বনানী করবস্থানে প্রিয় নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়াও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি – জাগপা’র সহ সভাপতি ও পঞ্চগড় জেলা জাগপা’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলীর নেতৃত্বে পঞ্চগড়ে, জাগপা’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বগুড়া জেলা জাগপা’র সভাপতি মোঃ শামীম আক্তার পাইলটের নেতৃত্বে বগুড়ায়, জাগপা’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যশোর জেলা জাগপা’র সভাপতি মোঃ নিজামউদ্দিন অমিতের নেতৃত্বে যশোরে, জাগপা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নীলফামারী জেলা জাগপা’র সভাপতি মোঃ জাকিউল আলম সাকীর নেতৃত্বে নীলফামারীতে, জাগপা’র ত্রান বিষয়ক সম্পাদক ও গাইবান্ধা জেলা জাগপা’র সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে গাইবান্ধায়, জাগপা’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট মহানগর  জাগপা’র সভাপতি মোঃ শাহজাহান আহমদ লিটনের নেতৃত্বে সিলেটে মরহুম শফিউল আলম প্রধানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল ও কাঙালী ভোজের আয়োজন করা হয়।