জন্মলগ্ন থেকেই জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য ছাত্রলীগ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামে অগণিত কৃষক শ্রমিক জনতার পাশাপাশি ছাত্রলীগ কর্মীরাও জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছে। হাজার হাজার সম্ভাবনাময় জীবন উৎসর্গিত হয়েছে স্বাধীনতার বেদিমূলে। নিজ দেশে পরবাসী হয়েছে এ দেশের মানুষ। সম্ভ্রম হারিয়েছে হাজার হাজার মা বোন। বিধবা অনাথ আর পুত্র হারার কান্নায় মথিত হয়েছে এদেশের আকাশ বাতাস। তারপর কালো রাত্রির বুক চিরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হল। স্বাধীনতা এলো, কিন্তু কার? শতাব্দী ব্যাপী যে শোষণ বঞ্চনা যে লাঞ্ছনা জাতীকে পঙ্গু করে রেখেছে তার অবসান হল।

সেদিন জাতি কি জানতো অস্ত্রের সাথে জমা দিতে হবে সব সোনালি স্বপ্নের ছবি। স্বাধীনতা এলো সব মুনাফাখোর, কালোবাজারি আর শাসক শোষকদের জন্য। যে বীর কৃষক দুবেলা দুমুঠো ভাতের স্বপ্নে রাইফেল কাঁধে নিয়েছে, যে শ্রমিক ন্যায্য মজুরীর জন্য বস্তিগুলোকে দুর্গে রূপান্তরিত করেছে, যে ছাত্র স্বাধীন মুক্ত স্বদেশের জন্য কলম ছেরে স্টেনগান ধরেছে তাঁরা কি পেয়েছে স্বাধীনতার স্বাদ? বীর কৃষকদের স্বপ্ন মহাজন, কালোবাজারি  আর মজুতদারের শোষণে নিষ্পেষিত হয়েছে। দুমুঠো ভাতের স্বপ্ন রূপান্তরিত হয়েছে দুঃসহ স্মৃতিতে। যে শ্রমিক লড়াই করেছে ন্যায্য মজুরীর জন্য স্বাধীনতা তার কাছে নির্মম পরিহাসে পরিণত হয়েছে। যে ছাত্র লড়াই করেছে নতুন জীবনের জন্য, স্বাধীনতা তার খাতা কলম কেরে নিয়েছে। স্বাধীনতা দেশকে বানিয়েছে ভিখারি, পরিয়েছে নতুন গোলামী জিঞ্জির।

একটা অসৎ ক্ষমতা-লিপ্সু নেতৃত্ব সম্ভাবনাময় গৌরবান্বিত জাতির প্রেরণাগুলোকে কিভাবে গলাটিপে হত্যা করতে পারে পৃথিবীর ইতিহাসে সম্ভবত এমন নজির বিরল। একটি আত্মপ্রত্যয়ী মহিমান্বিত জাতির স্বপ্নকে হয়তবা সাময়িকভাবে ধ্বংস করা যায় কিন্তু সম্ভাবনাকে ধ্বংস করা যায় না।

এ উপলব্ধির আলোকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতীয় কমিটি ও সকল জেলা শাখার সভাপতি ও সম্পাদকবৃন্দ ১৯৭৩ এর ১৮ই নভেম্বর ঢাকায় এক বর্ধিত সভায় মিলিত হন। ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বে সভার সিদ্ধান্ত নেয়। জনগণের জাতীয় স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা পূরণে গড়ে তুলতে হবে কৃষক শ্রমিক মধ্যবিত্ত সহ ব্যাপক জনগণের পার্টি। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় গণতান্ত্রিক মানসম্পন্ন নেতা ও কর্মীরা দীর্ঘ ৬ বছর কষ্টসাধ্য সংগ্রাম পরিচালনা করেন। ১৯৭৮ এর ৩০শে অক্টোবর ছাত্রলীগের বিশেষ সভায় সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক মুক্তি সংগ্রামে সফল করার লক্ষ্যে একটি প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পার্টি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপরোক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে ১৯৮০’র ১৮ই ফেব্রুয়ারি বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত জনসভায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি – জাগপার নাম ঘোষণা করা হয়।

শফিউল আলম প্রধান
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি – জাগপা