এবারের বাজেট জীবন ও জীবিকার সমন্বয়হীন বাজেট – ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান

জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বলেছেন, পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি হতে পারে প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ছয় শতাংশ। রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বেশি দেখানো হয়েছে যা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়। রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এই অঙ্ক বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের ৮.৫ শতাংশ বেশি। এই অঙ্কও বাস্তবসম্মত নয়। অবাস্তব এক লক্ষের পিছনে ছুটছে সরকার।

জাগপা সভাপতি বলেন, ২৫ হাজার টাকার উপর আয় করলে কর দিতে হবে, ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ পরোক্ষ কর দিতে বাধ্য থাকবে। অথচ যারা অসৎ উপায়ে সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে কর বাড়ানোর তেমন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে ধনীরা আরো ধনী হবে, দরিদ্রের দারিদ্রতা আরো বৃদ্ধি পাবে। প্রস্তাবিত বাজেট আয়তনে বেরেছে কিন্তু দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেনি।

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান আরো বলেন, চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বাজেট ঘোষিত হয়েছে কিন্তু কৃষি, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান খাতে বরাদ্দ আনুপাতিক হারে বাড়েনি, টাকার অংকে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা দুর্যোগে আক্রান্ত খাতগুলো প্রয়োজনীয়তার তুলনায় অনেক কম গুরুত্ব পেয়েছে। এই মহামারীতে যারা কর্ম হারিয়েছেন, তাদের জন্য কোনো বরাদ্দ না দেখে আমি হতাশ। বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে আগের চেয়ে আরো সহজাত পদ্ধতিতে। এতে দুর্নীতি আরও বৃদ্ধি পাবে। এবারের বাজেট জীবন ও জীবিকার সমন্বয়হীন বাজেট।